সাতক্ষীরার মসলা বাজারগুলোয় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে প্রতি কেজি জিরার দাম কমেছে ৫০-৬০ টাকা। গতকাল সাতক্ষীরা জেলার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক মোকাম সুলতানপুর বড় বাজারের কয়েকটি মসলা বিপণন ও আড়ত ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, সম্প্রতি সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ায় বাজারে পণ্যটির দাম কমে এসেছে।
সুলতানপুর বড় বাজারের মসলাজাত পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঠাকুর স্টোরে গতকাল ভারত থেকে আমদানীকৃত জিরা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৬২০-৬৩০ টাকায়। এ সময় সিরিয়া ও ইরান থেকে আমদানীকৃত জিরার দাম ছিল যথাক্রমে কেজিপ্রতি ৭৮০ ও ৮০০ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৮৪০-৮৫০ টাকা। সে সময় ভারতীয় জিরার দাম ছিল কেজিতে ৬৬০-৬৭০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী দুলাল চন্দ্র সাহা বণিক বার্তাকে জানান, বাজারে সরবরাহ বাড়ায় সব ধরনের আমদানীকৃত জিরার দাম কমেছে।
ভোমরা বন্দরের মসলাজাত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, ভারতে দাম কমে যাওয়ায় সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানে জিরা আমদানি বাড়ানো হয়েছে। আমদানীকৃত এসব জিরা ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
এদিকে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি হয়েছে ২ হাজার ১৮৯ টন, যার মূল্য ছিল ৯৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় ৬০ কোটি ৩২ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৫৭৫ টন জিরা আমদানি হয়েছিল। এ হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি বেড়েছে ৬১৪ টন।
সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বণিক বার্তাকে জানান, জিরাসহ মসলাজাত অন্যান্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসকের বাজার মনিটরিং কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদারকি করা হচ্ছে।